1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:২০ অপরাহ্ন

নিজেদের স্বার্থ বাস্তবায়নে’ তারেক রহমানের ওপর আস্থা দেখাচ্ছে দিল্লি

ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

 

ভারত ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে বিএনপি ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আস্থা দেখাতে শুরু করেছে নয়াদিল্লি—এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছেন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পরদিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লেখা চিঠি হস্তান্তর এই পরিবর্তনের প্রকাশ্য বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শোকবার্তা থেকে রাজনৈতিক বার্তা
৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর কালো পোশাকে শোকাভিভূত অবস্থায় তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এস জয়শঙ্কর। এ সময় তিনি নরেন্দ্র মোদির লেখা একটি চিঠি তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন।
সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জয়শঙ্কর লেখেন,
“ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানিয়েছি। বেগম খালেদা জিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ আমাদের অংশীদারত্বের বিকাশে পথনির্দেশক হবে বলে আস্থা প্রকাশ করেছি।”
এই মন্তব্যকে বিএনপির সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।
অতীতের বৈরিতা, বর্তমান বাস্তবতা
দীর্ঘদিন ধরেই ভারত খালেদা জিয়া ও বিএনপির রাজনীতিকে সন্দেহের চোখে দেখেছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির জোট, পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং ভারতের অভিযোগ অনুযায়ী সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভারতবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি সম্পর্ককে জটিল করে তুলেছিল।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে ভারত বরাবরই তাদের ‘স্বাভাবিক মিত্র’ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্রনেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের পতনের পর পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। হাসিনার প্রতি ভারতের দীর্ঘদিনের সমর্থনের কারণে বাংলাদেশে তীব্র ভারতবিরোধী মনোভাব তৈরি হয়।
বর্তমানে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে নয়াদিল্লির নীরবতা দুই দেশের সম্পর্কে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
বিএনপির অবস্থান বদল, দিল্লির হিসাব
এদিকে, আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিচ্ছে না। রাজনৈতিক শূন্যতায় বিএনপি মধ্যপন্থী ও উদার ভোটব্যাংক দখলের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে দলটি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।
দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনগুলোই তারেক রহমানকে ভারতের কাছে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন,
“তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে পরিণত মনোভাব দেখা যাচ্ছে। তিনি বুঝতে পারছেন, ভারতের বিরোধিতা নিয়ে সফলভাবে সরকার চালানো কঠিন।”
দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, লন্ডন থেকে ঢাকায় ফেরার সময় তারেক রহমানকে ঘিরে বিপুল জনসমাগম তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ভারতের ‘নিরাপদ বাজি’ কে?
বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট ও ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা নতুন রাজনৈতিক শক্তির তুলনায় তারেক রহমানকেই এখন নয়াদিল্লি ‘সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প’ হিসেবে দেখছে।
সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচ বলেন,
“ভারত জামায়াত ও ছাত্র বিপ্লবী শক্তিকে নিজের স্বার্থের জন্য বড় হুমকি মনে করে। এই বাস্তবতায় তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করাই তাদের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ।”
বিএনপির বার্তা: ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’
তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন,
“হাসিনার সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ছিল ব্যক্তিকেন্দ্রিক। বিএনপি ক্ষমতায় এলে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে ভারত ও চীনের সঙ্গে সমদূরত্ব বজায় রাখা হবে।”
তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবিতে ভারতকে চাপ দেওয়া হবে এবং নয়াদিল্লিকে ‘হাসিনার যুগ’ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
শুধু সৌজন্যে হবে না
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাৎ ও বার্তা সম্পর্ক উন্নয়নের সূচনা হলেও, বাস্তব সহযোগিতা ছাড়া তা টেকসই হবে না। সীমান্ত নিরাপত্তা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা, আঞ্চলিক রাজনীতি ও পাকিস্তানপন্থী গোষ্ঠীর প্রভাব—এসব ইস্যুতে তারেক রহমানের অবস্থানই নির্ধারণ করবে দিল্লির আস্থা কতটা গভীর হয়।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ বৈরিতার পর ভারত ও বিএনপির সম্পর্ক এখন প্রয়োজনের তাগিদে এক নতুন বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে—যেখানে আস্থা এখনো পরীক্ষাধীন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট