মো. আরিফ হোসেন
নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে গোপনীয়ভাবে টেন্ডার আহ্বান ও দুর্নীতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার নির্মাণ সামগ্রী নামমাত্র মূল্যে বিক্রির অভিযোগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামকে দিনভর অবরুদ্ধ করে রাখেন সাধারণ ঠিকাদাররা।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য কার্যালয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে নিলাম বাতিলের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং তিনি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পান।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, ডানিডার একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের জনস্বাস্থ্য বিভাগের গুদামে সংরক্ষিত ছিল। এসব সামগ্রী বিক্রির জন্য অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে কথিত দরপত্র আহ্বান করা হয়। নামমাত্র পরিচিত একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় অধিকাংশ ঠিকাদার বিষয়টি জানতে পারেননি এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেননি।
এই সুযোগে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহনাজের কাছে সামগ্রীগুলো পানির দামে বিক্রি করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ওই প্রতিষ্ঠান রাতারাতি গুদাম থেকে মালামাল সরিয়ে চরবাটা ও চর আমান উল্লায় সংরক্ষণ করে।
সূত্র জানায়, বিষয়টি জানাজানি হলে জেলার সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে ব্যাখ্যা চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিভিন্ন পর্যায়ের ঠিকাদাররা একত্রিত হয়ে তাকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করেন।
প্রসঙ্গত, নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে লোভ-লালসা, দুর্নীতি ও অদক্ষতার অভিযোগ নতুন নয়। অভিযোগ রয়েছে, তার কারণে নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দ পাওয়া একটি প্রকল্পের প্রায় ৯০ কোটি টাকা ফেরত চলে গেছে ঢাকায়। ফলে জেলার সুবিধাবঞ্চিত জনগণ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
এছাড়াও সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদারদের কাছ থেকে মোটা অংকের কমিশন না পাওয়ায় একাধিক দরপত্রের কার্যাদেশ সময়মতো দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে অনেক প্রকল্পের কাজ আটকে আছে। অপরদিকে যারা কমিশন দিয়ে কাজ পাচ্ছেন, তারা নিম্নমানের কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অবরুদ্ধ নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন,
“গুদামের মালামাল আমি নিলাম দেইনি। নিলাম প্রক্রিয়াটি ঢাকা থেকে করা হয়েছে। ঠিকাদারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিলামের কার্যাদেশ বাতিলের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।”