নিজস্ব প্রতিবেদক-
সিলেট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের সাবেক কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় থাকা বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি জব্দের (ক্রোক) আদেশ দিয়েছেন আদালত।
ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী জব্দকৃত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে—ঢাকা ও গাজীপুরে মোট ৭১ শতাংশ জমি, ঢাকার গুলশানে তিন কাঠা জমির ওপর নির্মিত একটি ৯ তলা ভবন এবং ঢাকার মোহাম্মদপুরে চারটি, গুলশানে একটি ও বাড্ডায় একটি ফ্ল্যাট।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিচালক ফারজানা ইয়াসমিন আদালতে জব্দের আবেদন করেন। আবেদনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন দুদকের আইনজীবী প্রসিকিউটর মোশারফ হোসেন কাজল।
জব্দের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোহাম্মদ এনামুল হকের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৭৬ লাখ ৯৭ হাজার ১০৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭ ও ১১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদক জানায়, তদন্তকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, আসামি তার মালিকানাধীন ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। এসব সম্পত্তি হস্তান্তর সম্পন্ন হলে মামলার তদন্ত, চার্জশিট দাখিল এবং বিচার শেষে অপরাধলব্ধ সম্পত্তি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এ কারণে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সম্পত্তিগুলো জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন।
এর আগে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে এনামুল হকের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। একই বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।