পটুয়াখালীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত সমাবেশে অংশ নেওয়ার নামে চাঁদা না দেওয়ায় পটুয়াখালীতে এক ব্যবসায়ীর দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পৌর বিএনপির উপদেষ্টা কমিটির নেতা শাহিন গাজী ও তাঁর সহযোগীরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।
ভুক্তভোগী তৌহিদুল ইসলাম (৫৮) পটুয়াখালী জেলার কলাতলা হাউজিং স্টেট এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হেপাটাইটিস–বি ভাইরাসে আক্রান্ত এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
তৌহিদুল ইসলাম জানান, চিকিৎসার জন্য তিনি গত ২০ ডিসেম্বর ঢাকায় যান। এর মধ্যে গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে শাহিন গাজী তাঁর মুঠোফোনে কল করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত সমাবেশে অংশ নেওয়ার যাতায়াত ব্যয় বাবদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।
তিনি বলেন, অসুস্থতার কথা জানিয়ে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শাহিন গাজী তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ফোন কেটে দেন। এরপরই তাঁর বাসার পাশের জমিতে নির্মিত দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ওই সময় তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তৌহিদুল ইসলামের অভিযোগ, তাঁকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে আগেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে দাবি করেন। ঘটনার পর তিনি জেলা বিএনপির একাধিক নেতার কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তৌহিদুল ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁদের মতে, এটি একটি ব্যক্তিগত চাঁদাবাজির ঘটনা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শাহিন গাজী বলেন,
“তৌহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগপন্থীদের বাসায় আশ্রয় দেওয়া, মিটিং আয়োজন এবং আর্থিক সহায়তা করে আসছেন। এ কারণেই তাঁর দোকানে তালা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সদর থানার ওসিকে জানানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন,
“আমি সদ্য এখানে যোগদান করেছি। তবে আইন অনুযায়ী কারও দোকানে অন্যায়ভাবে তালা দেওয়া বৈধ নয়। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান টোটন বলেন,
“আমি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি অন্যায় করে থাকে, তাহলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। উপযুক্ত তথ্য–প্রমাণ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”