নিজস্ব প্রতিবেদক-
ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে চারটি শীর্ষ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১৫২ কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে কাস্টমস কমিশনার ওয়াহিদা রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) অভিযান চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দুদকের একটি তদন্ত দল।
দুদক সূত্র জানায়, সোমবার (৩০ জুলাই) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সহকারী পরিচালক মো. শাহ আলম শেখের নেতৃত্বে একটি তদন্ত টিম এনবিআরে যায়। তারা অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বক্তব্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করেন। এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তদন্তের স্বার্থে দুদকের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এর আগে, গত ১১ জুন ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইন বহির্ভূতভাবে একক নির্বাহী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গ্রামীণফোন, রবি আজিয়াটা, বাংলালিংক ও এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেডের অনাদায়ী সুদ ১৫২ কোটি ৮৯ হাজার ৩৯০ টাকা মওকুফ করে সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগে ওয়াহিদা রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক।
অভিযুক্ত ওয়াহিদা রহমান চৌধুরী এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (LTU) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে গিয়ে বর্তমানে পিআরএল (Post Retirement Leave)-এ রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চারটি টেলিকম প্রতিষ্ঠানের স্থান ও স্থাপনা ভাড়ার ওপর আইনানুগভাবে ভ্যাট প্রযোজ্য হওয়ায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (ADR) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো ১৮৯ কোটি ৭৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে নির্ধারিত মেয়াদে অর্থ পরিশোধ না করায় মূসক আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য সুদ দাঁড়ায় ১৫২ কোটি ৮৯ হাজার ৩৯০ টাকা।
ভ্যাট আইন ১৯৯১-এর ধারা ৩৭(৩) অনুযায়ী সুদ আদায়ের নির্দেশ দিলেও পরবর্তীতে তিন থেকে পাঁচ মাস পর ভিন্ন আদেশে ওই সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ করে দেন ওয়াহিদা রহমান চৌধুরী।
সুদ বাবদ সরকারের পাওনার মধ্যে—
গ্রামীণফোন লিমিটেড: ৫৮ কোটি ৬৪ লাখ ৮৮ হাজার ৬৯৭ টাকা
বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশন: ৫৭ কোটি ৮৮ লাখ ৫৩ হাজার ৫১ টাকা
রবি আজিয়াটা লিমিটেড: ১৪ কোটি ৯৪ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৬ টাকা
এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেড: ২০ কোটি ৫৩ লাখ ৩০ হাজার ৯৫২ টাকা
এনবিআর সদস্য হোসেন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ওয়াহিদা রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১৮ ও ৪০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।