বরগুনা পৌর শহরে পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে আহত করা এবং ঘরে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে তার নিজের দুই ছেলে, দুই পুত্রবধূ ও এক নাতনীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাবার দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যে দুই ছেলে কারাগারে গেছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে বরগুনা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বঙ্গবন্ধু সড়কে অবস্থিত ‘মুক্তিযোদ্ধার বাসভবন’-এ।
ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল বাছেদ বাচ্চু (৭১) বরগুনা থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করেন, তার দুই ছেলে মো. সালাহউদ্দিন (৫৫) ও মো. আবুল কালাম আজাদ (৪৫), পুত্রবধূ কুলসুম আক্তার পূর্ণা (৪০), রিমা (৩৫) এবং নাতনী সুরাইয়া খানা (২৭) বেআইনিভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে তার ওপর হামলা চালান।
এজাহার অনুযায়ী, সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন বাজার থেকে বাসায় ফেরার পথে আসামিরা তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হন। একই সময়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী ফাতিমা ও মেয়ে পারভীন হোসাইনকেও মারধর করা হয় এবং এক পর্যায়ে রান্নাঘরে আটকে রাখা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় ঘরের ভেতর থাকা নগদ এক লাখ টাকা ও প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় আসামিরা। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা। পরে আহতরা বরগুনা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
ঘটনার পর বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বাছেদ বাচ্চু বাদী হয়ে বরগুনা থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার পরদিন ২১ জানুয়ারি বীর মুক্তিযোদ্ধার বড় ছেলে মো. সালাহউদ্দিনকে নিজ বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে গ্রেফতার করা হয়। অপরদিকে, ২৫ জানুয়ারি আদালতে হাজিরা দিতে গেলে ছোট ছেলে মো. আবুল কালাম আজাদকে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে বরগুনা থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।