নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসে ঘুষের বিনিময়ে পার্শ্ববর্তী জেলার বাসিন্দাদের ভোটার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার নাগরিকদের বয়স বাড়িয়ে এবং ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে বেগমগঞ্জে ভোটার করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন তদন্ত শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নতুন ভোটার নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ও ভোটার স্থানান্তরসহ বিভিন্ন সেবার জন্য নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। টাকা না দিলে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর জেলার কয়েকজন বাসিন্দা বয়স বাড়িয়ে ও ভিন্ন জেলার জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে বেগমগঞ্জে ভোটার হয়েছেন। তাদের দাবি, নির্বাচন অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে এসব নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়েছে।
এছাড়া আরও কয়েকশ ব্যক্তিকে একই কৌশলে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসে ভোটার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কাজে স্থানীয় দালাল চক্র এবং অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা নির্বাচন অফিসের এক কর্মচারী দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্মীপুর, ফেনী ও চাঁদপুর জেলার কিছু স্থায়ী বাসিন্দাকে বেগমগঞ্জে ভোটার করার অভিযোগ রয়েছে এবং এর বিনিময়ে অর্থ লেনদেন হয়ে থাকে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নাজমুল। তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী জেলার কাউকে ভোটার করতে তিনি কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি এবং এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই।
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান বলেন, তাদের এলাকার বেশ কিছু নাগরিক বয়স বাড়িয়ে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ভোটার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশন তদন্ত করছে।
বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, কিছু ভোটারের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার স্থায়ী ঠিকানা বেগমগঞ্জে দেখানো হয়েছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে তাদের স্থায়ী ঠিকানা লক্ষ্মীপুরে। তারা কীভাবে ভোটার হয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আজিজুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আইন অনুযায়ী, ভুয়া তথ্য দিয়ে ভোটার হওয়া, বয়স পরিবর্তন করে এনআইডি গ্রহণ করা কিংবা একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সূত্রের অভিযোগ এবং তদন্তাধীন তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তদন্ত এখনো চলমান এবং চূড়ান্তভাবে কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।