1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন

নামে-বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদ? দুদকের অনুসন্ধানে রাজস্ব কর্মকর্তা নয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

কাস্টমসের একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সারওয়ার হোসেন নয়নের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সরকারি চাকরির শুরুতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরে সাধারণ সিপাই হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে ২০২৫ সালের ৫ মার্চ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হন এবং বর্তমানে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম)-এ কর্মরত রয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। তার নামে ও বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদ, বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি, বহুতল ভবন এবং ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য নিয়ে ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জমি দখল, কৃষকদের দলিল আটকে রাখা, ফাঁকা ব্যাংক চেক নেওয়া এবং চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন সারওয়ার হোসেন নয়ন।

অভিযোগ রয়েছে, চাকরির শুরুতে বিমানবন্দর এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় তিনি স্বর্ণ ও বিদেশি পণ্য চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে পদোন্নতির পরও তার জীবনযাত্রা সরকারি বেতনের সীমা অতিক্রম করে বিলাসবহুল পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ঢাকায় ব্যয়বহুল জীবনযাপন, দামি গাড়ি, জমি ও ফ্ল্যাট ক্রয় এবং বিপুল ব্যাংক লেনদেন তার সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিভিন্ন মৌজায় বিপুল জমির মালিকানার অভিযোগ

অভিযোগ অনুযায়ী, নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী ও বিশা ইউনিয়নের বিভিন্ন মৌজায় তার নামে-বেনামে অন্তত ১২০ বিঘা জমি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

– দমদত্তবাড়িয়া মৌজায় ৪৫ বিঘা
– হিঙ্গুলকান্দি মৌজায় ১৫ বিঘা
– বাহাদুরপুর মৌজায় ১৮ বিঘা
– তেজনন্দী মৌজায় ২৫ বিঘা
– লালপাড়া মৌজায় ১৭ বিঘা

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাত্র এক লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে দলিল আটকে রাখা, একাধিক নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া এবং ফাঁকা ব্যাংক চেক সংগ্রহের মাধ্যমে পরে প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল করা হতো।

স্থানীয়দের অভিযোগ

এক প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন,
“নয়ন এখন গ্রামের জন্য আতঙ্ক। বাহিনী নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, ভয় দেখায়। টাকা আর প্রভাবের জোরে সে যা চায় তাই করে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ভুক্তভোগী বলেন,
“আমাদের জমির দলিল ও ব্যাংক চেক তার কাছে জিম্মি। ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারে না।”

পরিবারের সদস্যদের নামেও সম্পদের অভিযোগ

অভিযোগে বলা হয়েছে, নিজের অবৈধ সম্পদ গোপন করতে তিনি পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহার করেছেন। তার বাবা আজিম উদ্দিন, ভাই আনোয়ার হোসেন (সেন্টু), মিজানুর রহমান (মিন্টু) ও আবুল কালাম আজাদের নামে একাধিক জমি ক্রয় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া চাচাদের কিছু জমি নামজারি ছাড়াই দখলে রাখার অভিযোগও উঠেছে। এতে প্রকৃত মালিকরা নিজস্ব জমি ব্যবহার করতে পারছেন না বলে দাবি করা হয়েছে।

ব্যাংক লেনদেন নিয়েও প্রশ্ন

স্থানীয় সূত্রের দাবি, আত্রাই উপজেলার সমসপাড়া বাজারের বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের শাখায় তার নামে বিপুল অঙ্কের লেনদেন হয়। প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা জমা হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নয়ন বাহিনী’ নিয়ে অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘নয়ন বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি প্রভাবশালী গ্রুপের মাধ্যমে বিরোধীদের ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে জমি বিক্রিতে বাধ্য করা হয়। ফলে সাধারণ কৃষকরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

দুদকের অনুসন্ধান

দুদক সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, তদন্তে তার আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য, জমি ক্রয়, ব্যাংক লেনদেন এবং স্থাবর সম্পদের বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মত

আইন বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার রুবিনা সুলতানার মতে,
“একজন সরকারি কর্মচারীর নামে-বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদ থাকলে তার উৎস অবশ্যই তদন্ত করা প্রয়োজন।”

সামাজিক বিশ্লেষক ড. সাইফুল হক বলেন,
“গ্রামীণ এলাকায় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে জমি দখল ও সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করার অভিযোগ নতুন নয়। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।”

কাস্টমস কর্মকর্তার বক্তব্য

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি দায়িত্বে থেকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে দুদকের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সারওয়ার হোসেন নয়নের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পাদকের নোট: এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর অনেকগুলোই অভিযোগকারী ও স্থানীয় সূত্রের দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলমান। অভিযুক্ত ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধির বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট