জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আয়োজিত আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত ডকুমেন্টারিকে ঘিরে ক্যাম্পাসে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ডকুমেন্টারিটি একপেশেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এতে আন্দোলনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনের অবদান উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানটির ভিডিও প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজক উপ-কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘নীল দল’-এর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. এমডি. মাসুদ রহমান।
সূত্র জানায়, উপ-কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে প্রথমে দায়িত্বে ছিলেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক (বর্তমানে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য) এবং নোবিপ্রবি সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার।
পরে তিনি অন্যত্র যোগদান করায় নবনিযুক্ত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কমিটিতে রেজিস্ট্রার মো. মহিউদ্দিন আল ফয়সল ও কম্পিউটার অপারেটর আব্দুর রহিমও সদস্য হিসেবে ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ফলিত গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল করিম ডকুমেন্টারি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নোয়াখালীতে যেসব শিক্ষক সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের মধ্যে আমি একজন।
কিন্তু প্রদর্শিত ডকুমেন্টারিতে অন্যান্য শিক্ষকদের অবদান তুলে ধরা হলেও আমার একটি ছবিও স্থান পায়নি। সব মতের ঊর্ধ্বে উঠে ডকুমেন্টারি নির্মাণ করতে না পারা আমাদের জন্য লজ্জার।”
এপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডকুমেন্টারির সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, এতে মূলত সংশ্লিষ্ট নির্মাতাদের এবং ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের নেতাদের বক্তব্য ও আন্দোলনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, অথচ আন্দোলনের অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের অবদান যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
এদিকে, আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠনের সাবেক সভাপতিকে উপ-কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে অনুষ্ঠানের মূল কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “উনার প্রস্তাব যখন করা হয়, তখন কেউ আপত্তি জানাননি। অভিজ্ঞতা বিবেচনায় তাকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।”
তবে ডকুমেন্টারিতে পক্ষপাতের অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পৃথক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।