রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনিরুজ্জামান সরকার-এর বিরুদ্ধে বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। একটি অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, প্রায় ১৫ বছরের চাকরি জীবনে তার বৈধ আয় আনুমানিক ৯০ লাখ টাকা হলেও, তিনি ও তার পরিবারের নামে ঢাকা, রংপুর ও কুড়িগ্রামে শতকোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী-
, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে কর্মরত এই কর্মকর্তার নামে ও তার স্ত্রী আরফাতুন নাহারের নামে একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, জমি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গাড়ি এবং বিভিন্ন ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা যায়, ২০১১ সালের ৭ জুলাই ঠাকুরগাঁওয়ের বোদাগঞ্জ উপজেলায় অ্যাডহক ভিত্তিতে পিআইও হিসেবে যোগ দেন মনিরুজ্জামান সরকার। পরবর্তীতে স্থায়ী নিয়োগ পেয়ে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকেই বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের পথ শুরু হয়।
অনুসন্ধানে উঠে আসা সম্পদের বিবরণ-
অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, ঢাকার মিরপুরের রূপনগরে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট, রংপুরে একাধিক বাড়ি, আবাসিক হোস্টেল, প্লট ও জমি, কুড়িগ্রামে বিভিন্ন স্থানে জমি, স্ত্রী আরফাতুন নাহারের নামে প্লট ও জমি, নিজ এলাকায় দোতলা বাড়ি, একটি বড় ফার্মেসি, ছয়টি মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত বিলাসবহুল গাড়ি এবং তেলের পাম্প ব্যবসায় বিনিয়োগসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।
প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ-
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই অর্থ উত্তোলন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে একাধিক প্রকল্পে অনিয়ম করেন। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, ঈদগাহ, রাস্তা ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করার অভিযোগ ওঠে।
এছাড়া, একটি সময়ে প্রকল্পের অর্থ ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে রাখার অভিযোগও সামনে আসে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বদলি বাণিজ্য ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ-
অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তৎকালীন সরকারের সময় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে তিনি পিআইওদের বদলি বাণিজ্যে জড়ান এবং এর মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেন। একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পিআইও মনিরুজ্জামান সরকার বলেন,
«”আমার সম্পদসহ সকল বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আমি অবগত করেছি। এ বিষয়ে নতুন করে কিছু বলতে চাচ্ছি না।”»
টিআইবির মতামত-
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, কোনো ব্যক্তির আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদের অভিযোগ থাকলে তা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার তদন্তের বিষয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সম্পদের উৎসের ব্যাখ্যা দিতে হবে।
উল্লেখ্য,
প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানসূত্রের দাবি। এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের চূড়ান্ত রায় বা দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।