1. news@247banglanews.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.247banglanews.com : 24/7 Bangla News :
শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন

এলজিইডির নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুজ্জামান দুলালকে ঘিরে শত কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক-
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসানুজ্জামান দুলালকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, কমিশন বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রকল্পে অনিয়ম এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর নানা অভিযোগ উঠে আসছে।

যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় বা সরকারি তদন্তে প্রমাণিত সিদ্ধান্তও এখনো প্রকাশিত হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারদের একটি অংশের কাছে তিনি “৩% দুলাল” নামে পরিচিত। তাদের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৩ শতাংশ কমিশন নেওয়া হতো।

এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদার ও এলজিইডির একাংশের প্রকৌশলীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরি জীবনের শুরুতে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতির অভিযোগে তিনি সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়েছিলেন।

পরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে পুনরায় চাকরিতে ফিরে আসেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (IFAD) অর্থায়িত হাওর ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (HILIP)-এ দায়িত্ব পালনকালে শত শত কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের অভিযোগ ওঠে। সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী থেকে ডেপুটি প্রকল্প পরিচালক (ডিপিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলজিইডির অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রশাসনের প্রভাবশালী কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন ও প্রকল্পের দায়িত্ব পান।

একই সময়ে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলন, ভুয়া লেবার কন্ট্রাক্টিং সোসাইটি (LCS) ব্যবহার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগও ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এলজিইডিতে ৩৩টি অভিযোগ উত্থাপিত হয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি মামলা গ্রহণ করে। তবে প্রভাবশালী মহলের কারণে অভিযোগ ও মামলার কার্যকর অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তবে এই দাবির স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনের জন্য সম্ভব হয়নি

নারায়ণগঞ্জে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের পরও বিতর্ক থামেনি। কদম রসুল সেতু নির্মাণ প্রকল্পে বুয়েটের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নির্মাণসামগ্রীকে অসন্তোষজনক হিসেবে দেখানোর চেষ্টা এবং পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় প্রকল্প পরিচালক প্রধান প্রকৌশলীর কাছে তদন্তের আবেদন করেছিলেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের নির্দেশে তাকে প্রকল্পের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হলেও পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত বহাল ছিল কি না, সে বিষয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেছে।

২০২৬ সালে এলজিইডির নতুন বদলি নীতিমালা জারির পর নিজ জেলায় তার পদায়ন নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সমালোচনার মুখে পরবর্তীতে সেই আদেশ প্রত্যাহার করা হলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও বদলি নীতিমালার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও তাকে নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নতুন রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ থেকে রক্ষা পেতেই তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সরকারি কর্মকর্তা হয়েও বিএনপির মহাসচিবের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসানুজ্জামান দুলালের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত সব তথ্য বিভিন্ন অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অভিযোগকারীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত সিদ্ধান্ত বা আদালতের রায় প্রকাশিত হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট