নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার উদ্বৃত্ত খাবার একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিতরণের অভিযোগ উঠেছে।
অনুষ্ঠানের পর বেঁচে যাওয়া খাবারের প্যাকেট রিকশায় করে আবদুস সালাম হলে নিয়ে গিয়ে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের ব্যবহৃত কক্ষসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট কক্ষে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা শেষে বিপুলসংখ্যক উদ্বৃত্ত খাবারের প্যাকেট সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমানভাবে বিতরণ না করে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, এসব খাবার হলের সব শিক্ষার্থীর মধ্যে সুষমভাবে বিতরণ করা সম্ভব ছিল।
বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, উদ্বৃত্ত খাবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণে তার আপত্তি নেই। তবে একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি লেখেন, “উক্ত ছাত্রসংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের কক্ষে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫টি বা তার বেশি খাবারের প্যাকেট যেতে নিজের চোখে দেখেছি। কয়েকজনকে চার-পাঁচটি করে প্যাকেট নিতেও দেখেছি। সালাম হলের সামনে এক রিকশা ভর্তি খাবারের প্যাকেট আসে।”
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. কায়সার আহম্মদ আবিদও ফেসবুকে এ ঘটনার সমালোচনা করেন। তিনি জানতে চান, উদ্বৃত্ত খাবার বিতরণ এবং অডিটোরিয়ামের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব কোনো ছাত্রসংগঠনকে দেওয়া হয়েছিল কি না।
অভিযোগের বিষয়ে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। সারা দিন অডিটোরিয়ামে ছিলাম এবং কিছুক্ষণ আগে কক্ষে ফিরেছি। এখনো এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা শুনিনি। বিস্তারিত জানলে এ বিষয়ে বলতে পারব।”
এ বিষয়ে অনুষ্ঠানের আপ্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের পরিচালক এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আসাদুন নবী বলেন, “উদ্বৃত্ত খাবারের প্যাকেট কী করা হবে, তা জানতে সদস্যসচিব আমার কাছে এসেছিলেন। আমি হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেগুলো বিতরণ করে দিতে বলেছিলাম। পরে অতিথিদের নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আর খোঁজ নিতে পারিনি। আপনার কাছ থেকেই এখন এ অভিযোগের কথা শুনলাম।”
ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ।